দীপু চন্দ্র দাস ধর্ম নিয়ে কী বলেছিল? অনেক খুঁজেও এই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি।

 



দীপু চন্দ্র দাস ধর্ম নিয়ে কী বলেছিল?
অনেক খুঁজেও এই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি।

ইসলাম ধর্মের অবমাননার নামে গুজব সৃষ্টি করে  যারা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে উল্লাস করেছে। তারা কি আসলেই ইসলামের ভালো চায়?

সেই ধর্মান্ধদের কাছে আমার সরল প্রশ্ন: যুবকটি আসলে কী ধরনের কটূক্তি করেছিল ইসলাম বা ধর্ম সম্পর্কে? কোনো পোস্ট? কোনো অডিও? কোনো ভিডিও? কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য? কিছুই নেই।

একজন মুসলিম হিসেবে আমি মানতে পারি না। যাচাই ছাড়া, প্রমাণ ছাড়া, গুজবের ওপর ভর করে ভিন্ন ধর্মের একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করা যায়, আর সেই হত্যায় উল্লাস করা যায়?

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ, মামলা নথি বা কোনো বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমে এমন কোনো বক্তব্য, লেখা, অডিও বা ভিডিও পাওয়া যায়নি। যেখানে দীপু চন্দ্র দাস ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর কিছু বলেছেন বলে প্রমাণ মেলে।

যারা ইসলামের নামে লড়াই করার দাবি করে, তারা কি এসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামকেই কলুষিত করছে না? 

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে  প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে একজন মানুষকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করা কি কখনোই শরিয়তসম্মত হতে পারে?

আল্লাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন-“হে মুমিনগণ, কোনো ফাসিক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ আনে, তবে তা যাচাই করে দেখো।”
(সূরা হুজুরাত ৪৯:৬)।

যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা হারাম। যারা যাচাই না করে গুজবে উত্তেজিত হয়েছে, তারা কুরআনের সরাসরি নির্দেশ অমান্য করেছে।

গুজব ছড়ানো ও যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ। “তোমরা একে অন্যের মুখে মুখে কথা চালিয়ে নিয়েছ, অথচ তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না।”
(সূরা নূর ২৪:১৫–১৬)।

আর জীবিত মানুষকে আগুনে পোড়ানো তো দূরের কথা, মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলাও ইসলামে নিষিদ্ধ।
নবী ﷺ বলেছেন “আল্লাহ ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।”
(সহীহ বুখারি, হাদিস ৩০১৬)

আর যারা এই অপরাধে উল্লাস করেছে—“যারা কৃত অপরাধে আনন্দিত হয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
(সূরা আল-ইমরান ৩:১৮৮)।@হাইলাইট করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ